সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ ;
দ্বিতীয় দফায় আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের একে অন্যকে হুমকি ও ফেসবুকে অপ প্রচার শেষে উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে মঙ্গলবার ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এ ভোটে দ্বন্ধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে । পাশাপাশি হুমকি, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের আশঙ্কা দুই প্রার্থী। এমন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। ফলে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতিতে তাদের নেতাকর্মীরা মনে করেন দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
এসব পরিস্থিতি শেষে আজ মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চেয়ারম্যান পদে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম (ঘোড়া প্রতীক), বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবু (আনারস প্রতীক), উপজেলা সোনারগাঁও যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু (মোটরসাইকেল প্রতীক) ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হায়দার (দোয়াত-কলম প্রতীক) নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এদের মধ্যে নান্নু ও আলী হায়দার নির্বাচনের নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তবে তাদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা মাহফুজুর রহমান কালাম ও বাবুল হোসেনের। এ দুই প্রার্থীকে ঘিরে রীতিমত বিভক্ত হয়ে পড়েছে সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এ বিভক্তির মধ্যে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা বাবুল হোসেনকে সভা করে সমর্থন দিয়েছেন। বর্তমান সদস্য সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সারের অনুসারী ৯ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীরাও আনারস প্রতীকের প্রার্থী বাবুল হোসেনে সমর্থন দিয়েছেন।
অপরদিকে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সারের চাচা আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন, চাচতো ভাই এরফান হোসেন দীপ, তান্না মোশারফ ঘোড়া প্রতীকে মাহফুজুর রহমান কালামকে সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা.আবু জাফর চৌধুরী বিরু সমর্থন দিয়েছেন।
জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের নির্বাচনী প্রচারণায় সাংসদ কায়সারকে ভোটের ব্যাপারী হয়েন না, ভোটের ব্যাপারী হয়ে সুবিধা করতে পারবেন না। বলে মন্তব্য করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগ। এছাড়াও মুজিবুরের বিরুদ্ধে দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে গাজী মুজিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বক্তব্যে সংসদ সদস্যকে জড়ানো হচ্ছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নানা ধরনের হুমকি প্রদানসহ তাদের নামে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে। বাবুল হোসেনের সমর্থক সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান মাসুম, ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ভূইয়া, জাহিদ হাসান জিন্নাহর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারে থানায় জিডি করা হয়েছে। তাদের দাবি মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থকরা তাদের অপ-প্রচার ও হুমকি দিয়েছেন।
একইদিন রাতে নির্বাচনী প্রচারণায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল হোসেন বাবু ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর বংশ সোনারগাঁও থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। তার এ বক্তব্য ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে কালাম সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অপরদিকে সনমান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হত্যা মামলার প্রধান আসামী শহিদুল্লাহ বাবু সমর্থকরা কেন্দ্রে গেলে হত্যার হুমকি দেন। এমন একটি অডিও ফেসবুকে ফাঁস হয়। এসব কারণের নির্বাচনী মাঠ উত্যপ্ত হয়ে উঠেছে। ফলে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাবুল হোসেনের সমর্থক জাহিদ হাসান জিন্নাহ সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, আনারস প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। মাঠের পরিস্থিতিতে লড়াই হবে। তবে আশা করি তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।
মাহফুজুর রহমান কালাম সমর্থক গাজি মুজিবুর রহমান সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, কালাম একজন দক্ষ রাজনৈতিক নেতা। ঘোড়া প্রতীকে তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি চেয়ারম্যান পদে এগিয়ে আছেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ- অঞ্চল) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। কারো শঙ্কাই কাজ হবে না। পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাকিব আল রাব্বি সোনারগাঁও নিউজকে জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন হবে। কেউ জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল করতে চাইলে ভোট গ্রহন বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি জড়িতদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে।
আপনার মতামত দিন